বরিশাল ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শীতকালীন ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া, ক্রেতাদের মাথায় হাত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক— শীতকাল সবজির ভরা মৌসুম। অথচ এক কেজি বেগুন কিনতে হচ্ছে ৯০ টাকায়, শিম ৬০ টাকায়। এখন বাজারে আসলে মাথা গরম হয়ে যায়। আর পকেট হয় শীতল।’ শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের রাজা বাজারে কেনাকাটা করতে এসে ক্ষোভ নিয়ে এসব কথা বলেন খোরশেদ আলম নামে এক যুবক।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এই যুবক বলেন, বগুড়া সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে উৎপাদনও হয় প্রচুর। তবু বাজারে এত চড়া দাম। গত বছরে যে দামে কেনা হয়েছিল এবার তার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। এর জবাবও কারো কাছে নেই। দ্রব্যমূল্যের যে দাম বেড়েছে, আমাদের আয় কী বেড়েছে? ছিটেফোঁটাও বাড়েনি।

সবজির বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান খোরশেদ আলম।

শহরের এই রাজাবাজার পাইকারি ও আড়তদারদের মোকাম। এখানে খুচরা পণ্যও বিক্রি করে থাকে ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য বাজার থেকে কিছুটা কম দাম পাওয়া যায়, এ জন্য শহরের অধিকাংশ লোক এখানে বাজার করে থাকে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি স্টিক আলু ৪০ টাকায়, দেশি পাকড়ি আলু ৪৫, পেঁয়াজ ৭০, মরিচ ৬০ থেকে ৭০, শিম ৫০ থেকে ৬০, বেগুন ৯০, মিষ্টি কুমড়া ও মুলা ৩০, বরবটি ৬০, খিরা ৫০, মটরশুঁটি ১৪০ এবং ফুলকপি, টমেটো ও গাজর ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ২৫ টাকা ও লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বেগুন ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি আমরা। কৃষকরা মাঠেই এখন এমন দাম নিচ্ছেন। যার জন্য আমাদের বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। অন্য সবজির দাম মোটামুটি একই রকম আছে।

বগুড়ার সবজির মোকাম মহাস্থানহাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় সবজির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে সবজির ফলনও কমেছে। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় বেশি দামে সবজি বিক্রি করছে কৃষক ও পাইকাররা।

শনিবারের হাটে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি সাদা আলু ২৮ থেকে ৩২, লাল পাকড়ি ৪০ থেকে ৪২, ফুলকা ১৬, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩৩, পেঁয়াজ ৫৭ দশমিক ৫, মরিচ ৫৫ থেকে ৬০, মুলা ১৭ থেকে ২২, কুমড়া ২৫, গাজর ২২, পেঁপে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হয়। প্রতি পিস লাউ ৩৫ ও বাঁধাকপি ১৭ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি করেছে কৃষকরা।

হাটের পাইকার মোস্তাফিজার রহমান বলেন, গতবছর এই সময় ফুলকপি, মুলায় তাদের লোকসান হয়েছিল। এ কারণে এবার মূল শীতকালীন সবজির আবাদ কম করেছে কৃষকেরা। এই সময় যশোর, ঠাকুরগাঁও থেকেও ফুলকপি, বাঁধাকপি আসতো। কিন্তু সেটাও আসছে না। আর আবাদেও এবার খরচ বেড়েছে। এসব কারণে সবজির দাম বেশি।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭ হেক্টর। এই পরিমাণ জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন। আর ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

কৃষক স্বল্প লাভে সবজি বিক্রি করছেন বলে মন্তব্য করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতলুবর রহমান। তিনি বলেন, কৃষকের বিক্রি করা সেই সবজি হাতবদল হয়ে খুচরা পর্যায়ের ভোক্তাদের কাছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। মূলত বাজার তদারকির দুর্বলতার কারণেই ভরা মৌসুমে বাজারে সবজির দাম চড়া।

বগুড়া জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। জেলা প্রশাসনও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে। মনিটরিংয়ে যেটি দেখা যাচ্ছে কৃষক পর্যায়ে পণ্যের দাম বেশি ধরা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এসে কখনও কখনও অতিরিক্ত মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে কিনা সেটিও আমরা দেখছি। মনিটরিংয়ে কেউ অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন প্রমাণ পেলে তাকে কৃষি বিপণন আইনের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শীতকালীন ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া, ক্রেতাদের মাথায় হাত

আপডেট সময় : ১২:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক— শীতকাল সবজির ভরা মৌসুম। অথচ এক কেজি বেগুন কিনতে হচ্ছে ৯০ টাকায়, শিম ৬০ টাকায়। এখন বাজারে আসলে মাথা গরম হয়ে যায়। আর পকেট হয় শীতল।’ শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের রাজা বাজারে কেনাকাটা করতে এসে ক্ষোভ নিয়ে এসব কথা বলেন খোরশেদ আলম নামে এক যুবক।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এই যুবক বলেন, বগুড়া সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে উৎপাদনও হয় প্রচুর। তবু বাজারে এত চড়া দাম। গত বছরে যে দামে কেনা হয়েছিল এবার তার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। এর জবাবও কারো কাছে নেই। দ্রব্যমূল্যের যে দাম বেড়েছে, আমাদের আয় কী বেড়েছে? ছিটেফোঁটাও বাড়েনি।

সবজির বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার দাবি জানান খোরশেদ আলম।

শহরের এই রাজাবাজার পাইকারি ও আড়তদারদের মোকাম। এখানে খুচরা পণ্যও বিক্রি করে থাকে ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য বাজার থেকে কিছুটা কম দাম পাওয়া যায়, এ জন্য শহরের অধিকাংশ লোক এখানে বাজার করে থাকে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি স্টিক আলু ৪০ টাকায়, দেশি পাকড়ি আলু ৪৫, পেঁয়াজ ৭০, মরিচ ৬০ থেকে ৭০, শিম ৫০ থেকে ৬০, বেগুন ৯০, মিষ্টি কুমড়া ও মুলা ৩০, বরবটি ৬০, খিরা ৫০, মটরশুঁটি ১৪০ এবং ফুলকপি, টমেটো ও গাজর ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস বাঁধাকপি ২৫ টাকা ও লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. দুলাল বলেন, এক সপ্তাহ আগেও বেগুন ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি আমরা। কৃষকরা মাঠেই এখন এমন দাম নিচ্ছেন। যার জন্য আমাদের বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। অন্য সবজির দাম মোটামুটি একই রকম আছে।

বগুড়ার সবজির মোকাম মহাস্থানহাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় সবজির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে সবজির ফলনও কমেছে। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় বেশি দামে সবজি বিক্রি করছে কৃষক ও পাইকাররা।

শনিবারের হাটে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি সাদা আলু ২৮ থেকে ৩২, লাল পাকড়ি ৪০ থেকে ৪২, ফুলকা ১৬, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩৩, পেঁয়াজ ৫৭ দশমিক ৫, মরিচ ৫৫ থেকে ৬০, মুলা ১৭ থেকে ২২, কুমড়া ২৫, গাজর ২২, পেঁপে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হয়। প্রতি পিস লাউ ৩৫ ও বাঁধাকপি ১৭ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি করেছে কৃষকরা।

হাটের পাইকার মোস্তাফিজার রহমান বলেন, গতবছর এই সময় ফুলকপি, মুলায় তাদের লোকসান হয়েছিল। এ কারণে এবার মূল শীতকালীন সবজির আবাদ কম করেছে কৃষকেরা। এই সময় যশোর, ঠাকুরগাঁও থেকেও ফুলকপি, বাঁধাকপি আসতো। কিন্তু সেটাও আসছে না। আর আবাদেও এবার খরচ বেড়েছে। এসব কারণে সবজির দাম বেশি।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭ হেক্টর। এই পরিমাণ জমিতে শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৩১ মেট্রিক টন। আর ৫৫ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

কৃষক স্বল্প লাভে সবজি বিক্রি করছেন বলে মন্তব্য করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মতলুবর রহমান। তিনি বলেন, কৃষকের বিক্রি করা সেই সবজি হাতবদল হয়ে খুচরা পর্যায়ের ভোক্তাদের কাছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। মূলত বাজার তদারকির দুর্বলতার কারণেই ভরা মৌসুমে বাজারে সবজির দাম চড়া।

বগুড়া জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মমতা হক বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। জেলা প্রশাসনও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে। মনিটরিংয়ে যেটি দেখা যাচ্ছে কৃষক পর্যায়ে পণ্যের দাম বেশি ধরা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এসে কখনও কখনও অতিরিক্ত মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আছে কিনা সেটিও আমরা দেখছি। মনিটরিংয়ে কেউ অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন প্রমাণ পেলে তাকে কৃষি বিপণন আইনের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।