বরিশাল ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বরগুনায় নিখোঁজের ২ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনার তালতলীতে নিখোঁজের দুদিন পর সুখি আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুখি উপজেলার চরপাড়া এলাকার মো. হাসানের স্ত্রী। ওই গৃহবধূর বাবার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।

স্বজন ও তালতলী থানা সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ গত ৩১ জানুয়ারি ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে সারাদিন কাজ শেষে রাতে নিজ রুমে যায়। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সকালে পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনদের কাছে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। দুদিন পরে  শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের শ্বশুরবাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মরদেহের প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে আঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে বলে জানান পুলিশ। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

গৃহবধূরর বাবা বাবুল ফকির বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোক হত্যা করে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

গৃহবধূর স্বামী হাসান বলেন, ‘আমি সাগরের মাছ ধরছিলাম। আমার স্ত্রীর নিখোঁজের খবর শুনে আমি সাগরে মাছ ধরা রেখে চলে এসছি। এসে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি কিন্তু পাইনি। শুক্রবার সকালে আমার স্ত্রীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেয়। কে বা কারা আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামা খান বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শহিদুল ইসলামা খান আরও বলেন, ‘মরদেহ যে স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে এই ঘটনা ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। তদন্ত করে সঠিক রহস্য বের করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে হত্যার সঠিক কারণ বলা যাবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় নিখোঁজের ২ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরগুনার তালতলীতে নিখোঁজের দুদিন পর সুখি আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সুখি উপজেলার চরপাড়া এলাকার মো. হাসানের স্ত্রী। ওই গৃহবধূর বাবার দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।

স্বজন ও তালতলী থানা সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ গত ৩১ জানুয়ারি ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে সারাদিন কাজ শেষে রাতে নিজ রুমে যায়। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সকালে পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজনদের কাছে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। দুদিন পরে  শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের শ্বশুরবাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মরদেহের প্রাথমিক সুরতহালে শরীরে আঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে বলে জানান পুলিশ। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

গৃহবধূরর বাবা বাবুল ফকির বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ আমার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোক হত্যা করে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’

গৃহবধূর স্বামী হাসান বলেন, ‘আমি সাগরের মাছ ধরছিলাম। আমার স্ত্রীর নিখোঁজের খবর শুনে আমি সাগরে মাছ ধরা রেখে চলে এসছি। এসে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করি কিন্তু পাইনি। শুক্রবার সকালে আমার স্ত্রীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেয়। কে বা কারা আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামা খান বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শহিদুল ইসলামা খান আরও বলেন, ‘মরদেহ যে স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে এই ঘটনা ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। তদন্ত করে সঠিক রহস্য বের করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে হত্যার সঠিক কারণ বলা যাবে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।’