বরিশাল ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবা মুক্তিযোদ্ধা না তবু ও কোটায় চাকরি তিন ছেলের যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান’র মৃত্যুবার্ষিকীতে গৌরনদীতে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত ভোলায় হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন, স্বজনদের দাবি হত্যা নলছিটিতে চাচাকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ভাতিজা গ্রেপ্তার বিয়ের দাবিতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে তরুণীর অনশন মাদারীপুরে দুগ্ধপোষ্য ২ সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন মা গৌরনদীতে পূর্ব শত্রুতার একজনকে খুপিয়ে জখম আমতলীতে গুপ্তধন দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিলো কবিরাজ ভোলায় ১১৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই চিকিৎসকের মধ্যে হাতাহাতি

পাকিস্তানে নারী প্রার্থীদের জয়জয়কার, এগিয়ে পিটিআই-সমর্থিতরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩০৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ পাকিস্তানে চরম নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে সাধারণ নির্বাচন। বিতর্কিত এই নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট পায়নি। আর তাই এখনও ঠিক হয়নি, কারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির শাসন ক্ষমতায় বসতে চলেছে।

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনে পিটিআইয়ের চমকের পাশাপাশি আরেকটি ঘটনা সবার নজর কেড়েছে। এবার সেখানে নারী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। পিএমএল-এন বা পিপিপি’র তুলনায় ইমরানের পিটিআই-সমর্থিত নারী প্রার্থীরা বেশি জয় পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনসভায় নারীদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের আহ্বানের মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৭ জন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। যা ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে ১১ জন বেশি।

জিও নিউজ বলছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোট ৮৮২ জন নারী প্রার্থী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৩১২ জন জাতীয় পরিষদের জন্য এবং ৫৭০ জন প্রাদেশিক আইনসভার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নারী প্রার্থীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে।

পাকিস্তানের এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১১১টি রাজনৈতিক দল ২৭৫ জন নারী প্রার্থীকে মনোনীত করেছিল। এছাড়া এই ১১১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল সাধারণ আসনে পাঁচ বা ৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দেয়। আর চারটি রাজনৈতিক দল সাধারণ আসনে ৪.৫ শতাংশ থেকে ৪.৯ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

এর আগে ২০১৮ সালে রেকর্ড ১৮৩ জন নারী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র আটজন জয়ী হতে পেরেছিলেন। বিজয়ী নারী প্রার্থীদের মধ্যে চারজন সিন্ধ প্রদেশে, তিনজন পাঞ্জাবে এবং একজন বেলুচিস্তানে জয়ী হয়েছিলেন। আর খাইবার পাখতুনখাওয়াতে কোনও নারী প্রার্থী সেসময় সাধারণ আসনে জয়ী হয়নি। আর সাতজন প্রার্থী সেসময় প্রাদেশিক আসনে জয়ী হয়েছিলেন। যার দুজন সিন্ধু আইনসভায় এবং পাঁচজন পাঞ্জাব বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আর ২০১৩ সালে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩৫ জন। তবে এবার রেকর্ড ২৭ জন নারী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিষদে ১২ জন, পাঞ্জাবের আইনসভায় ১১ জন, সিন্ধ আইনসভায় দুজন এবং ১ জন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পরিষদে জয়ী হয়েছেন। জিও নিউজ বলছে, ২০২৪ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সফল হওয়া নারী প্রার্থীদের মধ্যে চারজন নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন-এর মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তারা হলেন ─ শিজরা মানসাব খারাল, মরিয়ম নওয়াজ শরিফ, বেগম তেহমিনা দৌলতানা এবং নোশীন ইফতিখার।

আর পাঁচজন বিজয়ী নারী প্রার্থী ছিলেন ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত। তারা হচ্ছেন ─ আয়েশা নাজির জাট, আম্বার মজিদ, জারতাজ গুল, শানদানা গুলজার খান এবং আনিকা মেহেদি এছাড়া বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নাফিসা শাহ এবং শাজিয়া মারি নামের দুই নারী তাদের নিজ নিজ জাতীয় পরিষদের আসন থেকে গত সপ্তাহের নির্বাচনে জিতেছেন।

এর পাশাপাশি আসিয়া ইসহাক সিদ্দিকী নামে এমকিউএম-পির একজন নারী প্রার্থীও করাচি থেকে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাকিস্তানে নারী প্রার্থীদের জয়জয়কার, এগিয়ে পিটিআই-সমর্থিতরা

আপডেট সময় : ০৪:১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ পাকিস্তানে চরম নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে সাধারণ নির্বাচন। বিতর্কিত এই নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট পায়নি। আর তাই এখনও ঠিক হয়নি, কারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির শাসন ক্ষমতায় বসতে চলেছে।

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনে পিটিআইয়ের চমকের পাশাপাশি আরেকটি ঘটনা সবার নজর কেড়েছে। এবার সেখানে নারী প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। পিএমএল-এন বা পিপিপি’র তুলনায় ইমরানের পিটিআই-সমর্থিত নারী প্রার্থীরা বেশি জয় পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনসভায় নারীদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের আহ্বানের মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৭ জন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। যা ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে ১১ জন বেশি।

জিও নিউজ বলছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মোট ৮৮২ জন নারী প্রার্থী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৩১২ জন জাতীয় পরিষদের জন্য এবং ৫৭০ জন প্রাদেশিক আইনসভার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নারী প্রার্থীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল উল্লেখযোগ্যভাবে।

পাকিস্তানের এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১১১টি রাজনৈতিক দল ২৭৫ জন নারী প্রার্থীকে মনোনীত করেছিল। এছাড়া এই ১১১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দল সাধারণ আসনে পাঁচ বা ৫ শতাংশের বেশি নারী প্রার্থী দেয়। আর চারটি রাজনৈতিক দল সাধারণ আসনে ৪.৫ শতাংশ থেকে ৪.৯ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

এর আগে ২০১৮ সালে রেকর্ড ১৮৩ জন নারী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সাধারণ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র আটজন জয়ী হতে পেরেছিলেন। বিজয়ী নারী প্রার্থীদের মধ্যে চারজন সিন্ধ প্রদেশে, তিনজন পাঞ্জাবে এবং একজন বেলুচিস্তানে জয়ী হয়েছিলেন। আর খাইবার পাখতুনখাওয়াতে কোনও নারী প্রার্থী সেসময় সাধারণ আসনে জয়ী হয়নি। আর সাতজন প্রার্থী সেসময় প্রাদেশিক আসনে জয়ী হয়েছিলেন। যার দুজন সিন্ধু আইনসভায় এবং পাঁচজন পাঞ্জাব বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আর ২০১৩ সালে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩৫ জন। তবে এবার রেকর্ড ২৭ জন নারী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিষদে ১২ জন, পাঞ্জাবের আইনসভায় ১১ জন, সিন্ধ আইনসভায় দুজন এবং ১ জন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক পরিষদে জয়ী হয়েছেন। জিও নিউজ বলছে, ২০২৪ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সফল হওয়া নারী প্রার্থীদের মধ্যে চারজন নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন-এর মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তারা হলেন ─ শিজরা মানসাব খারাল, মরিয়ম নওয়াজ শরিফ, বেগম তেহমিনা দৌলতানা এবং নোশীন ইফতিখার।

আর পাঁচজন বিজয়ী নারী প্রার্থী ছিলেন ইমরান খানের পিটিআই-সমর্থিত। তারা হচ্ছেন ─ আয়েশা নাজির জাট, আম্বার মজিদ, জারতাজ গুল, শানদানা গুলজার খান এবং আনিকা মেহেদি এছাড়া বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নাফিসা শাহ এবং শাজিয়া মারি নামের দুই নারী তাদের নিজ নিজ জাতীয় পরিষদের আসন থেকে গত সপ্তাহের নির্বাচনে জিতেছেন।

এর পাশাপাশি আসিয়া ইসহাক সিদ্দিকী নামে এমকিউএম-পির একজন নারী প্রার্থীও করাচি থেকে জাতীয় পরিষদে জয়লাভ করেছেন।