বরিশাল ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বরিশালে নিপা ভাইরাস কেড়ে নিলো ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার প্রাণ

রাহাদ সুমন
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৬০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥  নিপা ভাইরাস  কেড়ে নিলো বরিশালের বানারীপাড়ার তিন বছরের ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার প্রাণ। প্রায় এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার ( ১৮ ফেব্রুয়ারী) বেলা পৌণে ১২টার দিকে জীবন প্রদীপ নিভে যায় তার। এ যেন ফুল প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই অঙ্কুরে ঝড়ে পড়ার মত। বাড়িঘর মাতিয়ে রাখা মায়াবী চোখের অনিন্দ্য সুন্দর চঞ্চলা শিশু তহুরার নিষ্পাপ নিথর দেহ কাঁদাচ্ছে সবাইকে। আর কোনদিন পুতুল নিয়ে খেলবে না সে। বাবা-মায়ের কাছে চকলেট ও খেলনা কিনে দেওয়ার বায়নাও ধরবে না সে। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে জাগতিক সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে তহুরা কেবলই ধুসর স্মৃতি হয়ে স্বজনদের মানসপটে ভেসে বেড়াবে,তাদের অশ্রুজলে সিক্ত করবে। তহুরা বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামের এক সময়ের ইতালী প্রবাসী ও বর্তমানে ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন সান্টুর  মেয়ে। তহুরার বড় চাচা উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এমএ সালেক হাওলাদার ও অপর চাচা ইতালী প্রবাসী জামাল রেজা জানান, ভাতিজি তহুরা বাড়িতে বসে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার সপ্তাহ খানেক পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে । এক মাস পূর্বে  প্রথম দিন তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও দ্বিতীয় দিন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মহাখালীর আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। সেখানে ৮ দিন চিকিৎসার পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশু হাসপাতালে ২০ দিন পিআইসিউতে চিৎিসাধিন থাকা অবস্থায় রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী ) বেলা পৌণে ১২টার দিকে তহুরা মারা যায়। তহুরার চাচা জামাল রেজা আরও জানান,তার ভাতিজি প্রথমে ঢাকায় আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ও পরে শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম. মনির হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধিন ছিল। চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন তহুরা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। এদিকে ফুলের মত ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মা,ভাই-বোন ও স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ-আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রোববার বাদ এশা উপজেলার আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চোখের জলে তহুরাকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হবে। প্রসঙ্গত,বানারীপাড়ায় নিপা ভাইরাসে শিশু তহুরারই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বরিশালে নিপা ভাইরাস কেড়ে নিলো ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার প্রাণ

আপডেট সময় : ০৮:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥  নিপা ভাইরাস  কেড়ে নিলো বরিশালের বানারীপাড়ার তিন বছরের ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার প্রাণ। প্রায় এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার ( ১৮ ফেব্রুয়ারী) বেলা পৌণে ১২টার দিকে জীবন প্রদীপ নিভে যায় তার। এ যেন ফুল প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই অঙ্কুরে ঝড়ে পড়ার মত। বাড়িঘর মাতিয়ে রাখা মায়াবী চোখের অনিন্দ্য সুন্দর চঞ্চলা শিশু তহুরার নিষ্পাপ নিথর দেহ কাঁদাচ্ছে সবাইকে। আর কোনদিন পুতুল নিয়ে খেলবে না সে। বাবা-মায়ের কাছে চকলেট ও খেলনা কিনে দেওয়ার বায়নাও ধরবে না সে। সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে জাগতিক সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে তহুরা কেবলই ধুসর স্মৃতি হয়ে স্বজনদের মানসপটে ভেসে বেড়াবে,তাদের অশ্রুজলে সিক্ত করবে। তহুরা বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামের এক সময়ের ইতালী প্রবাসী ও বর্তমানে ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন সান্টুর  মেয়ে। তহুরার বড় চাচা উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এমএ সালেক হাওলাদার ও অপর চাচা ইতালী প্রবাসী জামাল রেজা জানান, ভাতিজি তহুরা বাড়িতে বসে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার সপ্তাহ খানেক পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে । এক মাস পূর্বে  প্রথম দিন তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও দ্বিতীয় দিন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মহাখালীর আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি  করা হয়। সেখানে ৮ দিন চিকিৎসার পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিশু হাসপাতালে ২০ দিন পিআইসিউতে চিৎিসাধিন থাকা অবস্থায় রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারী ) বেলা পৌণে ১২টার দিকে তহুরা মারা যায়। তহুরার চাচা জামাল রেজা আরও জানান,তার ভাতিজি প্রথমে ঢাকায় আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ও পরে শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম. মনির হোসেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধিন ছিল। চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন তহুরা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। এদিকে ফুলের মত ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু তহুরার অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মা,ভাই-বোন ও স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ-আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রোববার বাদ এশা উপজেলার আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চোখের জলে তহুরাকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হবে। প্রসঙ্গত,বানারীপাড়ায় নিপা ভাইরাসে শিশু তহুরারই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।