বরিশাল ০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কলাপাড়ায় সিএনজি খাদে পড়ে নিহত ২ রাজাপুরে এসএসসি ২০১৬ ব্যাচের ইফতার ও পূর্নমিলনী অনুষ্ঠিত উজিরপুরে এসএসসি ২০১৬ ব্যাচের ইফতার ও পূর্নমিলনী অনুষ্ঠিত সুবিদখালী দারুসসুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল উজিরপুরে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত সর্দার শহীদুল গ্রেফতার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদকে পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় মঠবাড়িয়াবাসী পটুয়াখালীতে সৌদি আরবের সাথে ঈদ উদযাপন  ভুরিয়া ইউপি নির্বাচনে আনারস প্রতীক পেলেন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সরোয়ার হোসেন খান পটুয়াখালীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার  পটুয়াখালী সদর উপজেলা বাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম সোয়েব

মির্জাগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুলে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

আব্দুল ওয়াদুদ, স্টাফ রিপোর্টার: আম বাংলাদেশের অর্থকরী ফল। বাংলাদেশের ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে আমকে। সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মনকাড়া ঘ্রাণ। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসেছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে মির্জাগঞ্জ মরহুম হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.) দরবার শরীফের আম বাগানের ছোট বড় আম গাছে। দৃশ্যটি যে কাউকেই কাছে টানবে। প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগেভাগেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে মির্জাগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। মুকুলেরভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালপালা। সেই মুকুলের ম ম গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন। দেশি আমের পাশাপাশি আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আম অন্যতম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আমের গুটি।
মির্জাগঞ্জ মাজার অকফ এস্টেটের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম মল্লিক বলেন আমাদের এখানে ১৫০ টির বেশি আমগাছ আছে, এবার কুয়াশা ও শীত কম থাকায় সবগুল গাছে মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে।
উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের আব্দুল হানিফ সহ আরো কয়েকজন আম চাষি জানান, এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ আম বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমাদের বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে ফুটছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর তারা আমের বাম্পার ফলন পাবেন বলে তারা আশা করছেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত রহমান জানিয়েছেন, মির্জাগঞ্জে গাছে গাছে এখন প্রচুর আমের মুকুল। অজস্র মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। আমের মুকুলের মধ্য শতকরা ৭০ ভাগ হচ্ছে পুরুষ, ৩০ ভাগ হচ্ছে স্ত্রী, পুরুষ মুকুল ঝড়ে যাবে, আর স্ত্রী মুকুল থেকে আমের গুটি বের হবে এবং প্রতি মুকুলে দুইটি করে আম হলে সেটাই বাম্পার ফলন। তিনি আরো বলেন, মির্জাগঞ্জে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ১০টি বাগান রয়েছে, আর প্রতিটি বাগানে ৫০-১০০ টির বেশী গাছ রয়েছে। তবে মুকুলের প্রধান শত্রু হচ্ছে কুয়াশা। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সস্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মির্জাগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুলে, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১১:৫২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আব্দুল ওয়াদুদ, স্টাফ রিপোর্টার: আম বাংলাদেশের অর্থকরী ফল। বাংলাদেশের ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে আমকে। সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মনকাড়া ঘ্রাণ। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসেছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে মির্জাগঞ্জ মরহুম হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফা (র.) দরবার শরীফের আম বাগানের ছোট বড় আম গাছে। দৃশ্যটি যে কাউকেই কাছে টানবে। প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগেভাগেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে মির্জাগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলোতে। মুকুলেরভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালপালা। সেই মুকুলের ম ম গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন। দেশি আমের পাশাপাশি আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি জাতের আম অন্যতম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আম বাগানের সারি সারি আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আমের গুটি।
মির্জাগঞ্জ মাজার অকফ এস্টেটের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম মল্লিক বলেন আমাদের এখানে ১৫০ টির বেশি আমগাছ আছে, এবার কুয়াশা ও শীত কম থাকায় সবগুল গাছে মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বাগান পরিচর্যা করা হচ্ছে।
উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের আব্দুল হানিফ সহ আরো কয়েকজন আম চাষি জানান, এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ আম বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমাদের বাগানের অধিকাংশ গাছ-ই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে ফুটছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর তারা আমের বাম্পার ফলন পাবেন বলে তারা আশা করছেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত রহমান জানিয়েছেন, মির্জাগঞ্জে গাছে গাছে এখন প্রচুর আমের মুকুল। অজস্র মুকুল দেখে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আম গাছে মুকুল আসার আদর্শ সময়। আমের মুকুলের মধ্য শতকরা ৭০ ভাগ হচ্ছে পুরুষ, ৩০ ভাগ হচ্ছে স্ত্রী, পুরুষ মুকুল ঝড়ে যাবে, আর স্ত্রী মুকুল থেকে আমের গুটি বের হবে এবং প্রতি মুকুলে দুইটি করে আম হলে সেটাই বাম্পার ফলন। তিনি আরো বলেন, মির্জাগঞ্জে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ১০টি বাগান রয়েছে, আর প্রতিটি বাগানে ৫০-১০০ টির বেশী গাছ রয়েছে। তবে মুকুলের প্রধান শত্রু হচ্ছে কুয়াশা। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সস্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হচ্ছে। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।