বরিশাল ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জনবিচ্ছিন্ন নাকি জনবান্ধব নেতা খান মামুন?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক— বরিশাল মহানগর যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন একজন জনবান্ধব ও কর্মীবান্ধব নেতা নাকি জনবিচ্ছিন্ন নেতা? এরকম নানা প্রশ্ন জনমনে আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। বরিশালের জননন্দিত প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন তিনি। বহিস্কারের পর সংগঠনে কোনঠাসা অবস্থার মুখে পড়ে মূল ধারার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন বিএম কলেজের প্রভাবশালী সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। এবার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনী মাঠে চাউর ঘটান। একেক সময় একেক কেন্দ্রীয় নেতার আর্শিবাদপুষ্ট বনে গিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।
বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরণের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটের আগে একই বছরের ৩০ মে তাঁকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করে দলের হাইকমান্ড।
দলে দীর্ঘ কোনঠাসার একপর্যায়ে সদর আসনের সাংসদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (কর্নেল অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। যদিও সংগঠনে নিজস্ব কোন বলয় তৈরী করতে পারেননি খান মামুন। তার নিজস্ব কোন কর্মী নেই।
নির্বাচনী মাঠে কথা উঠেছে-তিনি প্রতিমন্ত্রী ও মেয়রের নাম ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মূলত: নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এমপি-মন্ত্রী এবং মেয়রদের কারো পক্ষে অবস্থান বা সমর্থনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সরকারের।
নানা শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওনাকে (খান মামুন) হাজারবার ফোন দিলেও তো রিসিভ করেন না। আবার ওনার বাড়িতে গেলে বাসার দরজা ভেতর থেকে সর্বদা দেওয়া থাকে। বাসায় কেউ দেখা করতে গেলে তার চেলা-চামুন্ডারা বলে-ভাই বাসায় নেই।
ছাত্রলীগ, যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জনপ্রতিনিধি হতে মরিয়া খান মামুন নিজে বাসার মধ্যে থাকলেও তার পালিত লোকজন দিয়ে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে- তিনি বাসায় নেই। আবার খানকে ফোনে কখনই পাওয়া যায় না। জনপ্রতিনিধি হতে চান অথচ তিনি জনসাধারণের ফোন ধরেন না। এমনকি নিজ দলের কর্মীদেরও তিনি কখনো ফোন রিসিভ করেন না।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুম ক্ষোভের সুরে বলেন, ওনি জনপ্রতিনিধি হওয়া না হওয়া একই কথা। ওনি জনপ্রতিনিধি হলে জনগণের কোন লাভ নেই। কারণ ওনি কারো ফোন রিসিভ করেন না। পাশাপাশি তার বাসায় কেউ দেখা করতে গেলে বাসায় থাকলেও তিনি দেখা করেন না। সেখান থেকে বলা হয়-খান সাহেব বাসায় নেই।
মহানগর যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান খোকন সহ বেশ কয়েকজন বলেন, খান মামুন একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। জনগণের সাথে তার কোন ধরণের সম্পূক্ততা নেই। দলের কর্মীদের কাছেও তিনি জনবিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত।
এসব প্রসঙ্গে জানতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুনের ব্যক্তিগত সেলফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জনবিচ্ছিন্ন নাকি জনবান্ধব নেতা খান মামুন?

আপডেট সময় : ১২:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক— বরিশাল মহানগর যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন একজন জনবান্ধব ও কর্মীবান্ধব নেতা নাকি জনবিচ্ছিন্ন নেতা? এরকম নানা প্রশ্ন জনমনে আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। বরিশালের জননন্দিত প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন তিনি। বহিস্কারের পর সংগঠনে কোনঠাসা অবস্থার মুখে পড়ে মূল ধারার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন বিএম কলেজের প্রভাবশালী সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। এবার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনী মাঠে চাউর ঘটান। একেক সময় একেক কেন্দ্রীয় নেতার আর্শিবাদপুষ্ট বনে গিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি।
বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরণের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটের আগে একই বছরের ৩০ মে তাঁকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করে দলের হাইকমান্ড।
দলে দীর্ঘ কোনঠাসার একপর্যায়ে সদর আসনের সাংসদ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (কর্নেল অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। যদিও সংগঠনে নিজস্ব কোন বলয় তৈরী করতে পারেননি খান মামুন। তার নিজস্ব কোন কর্মী নেই।
নির্বাচনী মাঠে কথা উঠেছে-তিনি প্রতিমন্ত্রী ও মেয়রের নাম ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মূলত: নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এমপি-মন্ত্রী এবং মেয়রদের কারো পক্ষে অবস্থান বা সমর্থনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সরকারের।
নানা শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওনাকে (খান মামুন) হাজারবার ফোন দিলেও তো রিসিভ করেন না। আবার ওনার বাড়িতে গেলে বাসার দরজা ভেতর থেকে সর্বদা দেওয়া থাকে। বাসায় কেউ দেখা করতে গেলে তার চেলা-চামুন্ডারা বলে-ভাই বাসায় নেই।
ছাত্রলীগ, যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জনপ্রতিনিধি হতে মরিয়া খান মামুন নিজে বাসার মধ্যে থাকলেও তার পালিত লোকজন দিয়ে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে- তিনি বাসায় নেই। আবার খানকে ফোনে কখনই পাওয়া যায় না। জনপ্রতিনিধি হতে চান অথচ তিনি জনসাধারণের ফোন ধরেন না। এমনকি নিজ দলের কর্মীদেরও তিনি কখনো ফোন রিসিভ করেন না।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুম ক্ষোভের সুরে বলেন, ওনি জনপ্রতিনিধি হওয়া না হওয়া একই কথা। ওনি জনপ্রতিনিধি হলে জনগণের কোন লাভ নেই। কারণ ওনি কারো ফোন রিসিভ করেন না। পাশাপাশি তার বাসায় কেউ দেখা করতে গেলে বাসায় থাকলেও তিনি দেখা করেন না। সেখান থেকে বলা হয়-খান সাহেব বাসায় নেই।
মহানগর যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান খোকন সহ বেশ কয়েকজন বলেন, খান মামুন একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। জনগণের সাথে তার কোন ধরণের সম্পূক্ততা নেই। দলের কর্মীদের কাছেও তিনি জনবিচ্ছিন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত।
এসব প্রসঙ্গে জানতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুনের ব্যক্তিগত সেলফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।