বরিশাল ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় দুমকিতে জেলে বরাদ্দের গরু ছিনিয়ে নিল চেয়ারম্যান! তালতলীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রধান শিক্ষকের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত নলছিটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী সালাহ উদ্দিন খান সেলিম গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল পটুয়াখালীতে মাদক ব্যবসায়ীর কথা না শোনায় মারধরের অভিযোগ গৌরনদীতে মটরসাইকেল মার্কার সমর্থনে উঠান বৈঠক দুমকিতে কাপ প্রিচ মার্কার প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর হামলা ঝালকাঠিতে আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা মঠবাড়িয়ায় এ্যাডঃ বায়জিদ আহম্মেদ খানের দোয়াত কলম মার্কার গনজোয়ার।  নলছিটিতে এক কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা

ঝালকাঠিতে আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

বরিশাল সময় নিউজ রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী (দোয়াত-কলম) সুলতান হোসেন খানের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হামলার ঘটনায় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস) আরিফুর রহমান খানসহ জেলা আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সুলতান হোসেনের ভাই হেমায়েত উদ্দিন খান মামলাটি করেন। এ ঘটনায় ইতো মধ্যে ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির, যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর কামাল শরীফ, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম পারভেজসহ মোট ১৭ জন।

মামলার এজাহারে হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘আমার ভাই সুলতান হোসেন খান ঝালকাঠি উপজেলার একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর থেকে অপর প্রার্থী আরিফুর রহমানের নির্দেশে মামলার আসামিরা তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকি দিয়ে আসছে। এদিকে আমার ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে গত ১৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ সময় আরিফুর রহমানের নির্দেশে অন্য আসামিরা দা, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক, জিআই পাইপ, রামদা, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমার ভাইয়ের উঠান বৈঠকে হামলা করে। এ সময় হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয় কামাল শরীফ। তবে আমার ভাই সরে যাওয়ায় কোপটি তার ডান বাহুতে লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয়।

এ হামলায় আমার ভাইয়ের কর্মী—সমর্থকরা আহত হয়। পাশাপাশি ভাইয়ের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিতে নেয় তারা।’ এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে আসামিরা। পরে আমার ভাবিসহ  স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ভাইসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুক্তভোগীদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে, গত মঙ্গলবার সুলতান হোসেন খানের ওপর হামলার ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে আরিফুর রহমানের সমর্থক জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলফি শাহরুন শুভ, ইশতিয়াক আহমেদ ও তুহিন হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বরিশাল সময় নিউজকে বলেন, আটক ৩ জনের মধ্যে একজন এ মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। অন্য ২ জন সন্দেহভাজন আসামি। অপর দিকে প্রতিপক্ষ খান আরিফুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি পাল্টা অভিযোগ এজাহার হিসেবে প্রক্রিয়াধীন আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা

ঝালকাঠিতে আ.লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা

আপডেট সময় : ০৭:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী (দোয়াত-কলম) সুলতান হোসেন খানের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হামলার ঘটনায় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস) আরিফুর রহমান খানসহ জেলা আ.লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সুলতান হোসেনের ভাই হেমায়েত উদ্দিন খান মামলাটি করেন। এ ঘটনায় ইতো মধ্যে ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফুর রহমান, জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির, যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর কামাল শরীফ, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ মধু ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম পারভেজসহ মোট ১৭ জন।

মামলার এজাহারে হেমায়েত উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘আমার ভাই সুলতান হোসেন খান ঝালকাঠি উপজেলার একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর থেকে অপর প্রার্থী আরিফুর রহমানের নির্দেশে মামলার আসামিরা তাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকি দিয়ে আসছে। এদিকে আমার ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে গত ১৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ সময় আরিফুর রহমানের নির্দেশে অন্য আসামিরা দা, লোহার রড, চাপাতি, হকিস্টিক, জিআই পাইপ, রামদা, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আমার ভাইয়ের উঠান বৈঠকে হামলা করে। এ সময় হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয় কামাল শরীফ। তবে আমার ভাই সরে যাওয়ায় কোপটি তার ডান বাহুতে লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয়।

এ হামলায় আমার ভাইয়ের কর্মী—সমর্থকরা আহত হয়। পাশাপাশি ভাইয়ের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিতে নেয় তারা।’ এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে আসামিরা। পরে আমার ভাবিসহ  স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ভাইসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুক্তভোগীদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের—ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে, গত মঙ্গলবার সুলতান হোসেন খানের ওপর হামলার ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে আরিফুর রহমানের সমর্থক জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলফি শাহরুন শুভ, ইশতিয়াক আহমেদ ও তুহিন হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বরিশাল সময় নিউজকে বলেন, আটক ৩ জনের মধ্যে একজন এ মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি। অন্য ২ জন সন্দেহভাজন আসামি। অপর দিকে প্রতিপক্ষ খান আরিফুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি পাল্টা অভিযোগ এজাহার হিসেবে প্রক্রিয়াধীন আছে।